বগুড়ায় ৫ কলেজে পাস করেনি কেউ, কমেছে পাসের হার
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী বোর্ডের সার্বিক ফল বিপর্যয়ের ধাক্কা লেগেছে বগুড়া জেলাতেও। প্রতিবছর ভালো ফলাফল করে গেলেও এ বছর কমেছে পাসের হার। এরমধ্যে ৫টি কলেজ থেকে কেউ পাস করেননি।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীন বগুড়ায় ২০২৫ সালের ৬৩টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২৫ হাজার ৯৬০জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এরমধ্যে পাস করে ১৭ হাজার ৯২১জন। আর জিপিএ-৫ পায় ৩ হাজার ১৬৩জন।
গত বছর রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। চলতি বছরে (২০২৬) এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী।
এবছর বগুড়ায় জিপিএ-৫ এসেছে জেলাজুড়ে ১ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থীর। এরমধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির অর্ধেকের বেশি নিয়ে শিক্ষার শীর্ষ স্থানে রয়েছে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ। পুরো জেলায় অর্জিত মোট জিপিএ-৫-এর মধ্যে একা এই কলেজ থেকেই এসেছে ৭৪৭টি, যা মোট প্রাপ্তির ৫৭ শতাংশ।
বোর্ড সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এ বছর ১ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। বগুড়ায় শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান-মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল ও কলেজ। এ কলেজ থেকে ৭৬ জনের মধ্যে ২৬টি জিপিএ-৫ এবং বিএএফ শাহীন কলেজ ৮০ জনের মধ্যে শতভাগ পাস করেছে।
তবে বিএএফ শাহীন কলেজ এর জিপিএ-৫ প্রপ্তি এবার নেই। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে ৪২৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪২০ জন পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪ জন। বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে ৬৬৫ জনের মধ্যে ৬৫৭ জন পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪ জন। বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ থেকে ২৪০ জনের মধ্যে ২৩৬ জন পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪ জন।
বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজে পাসের হার ৯২.১৪ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ জন এবং বগুড়া সরকারি কলেজে পাসের হার ৮৯.৯০ শতাংশ জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০৭ জন। সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজে ১ হাজার ৪৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ১৮৭ জন পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬ জন। সরকারি শাহ সুলতান কলেজে ১ হাজার ৩৯৯ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৯৭৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৪ জন।
পুলিশ লাইন্স স্কুল ও কলেজ থেকে ২৯৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৮৩ জন পাস করেছেন (পাসের হার ৯৪.৬৫%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ জন) এবং আরডিএ ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ থেকে ২৬১ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৪৭ জন পাস করেছেন (পাসের হার ৯৪.৬৪%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৭ জন)। এর বাইরে জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ এবং কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
চলতি বছর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শূন্যপাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন গাবতলীর তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ থেকে। এই প্রতিষ্ঠানটির ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। বাকি চার প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল নামমাত্র।
গাবতলীর বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। একই অবস্থা ধুনটের গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ ও কাহালুর দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজের। এই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে দুজন করে চারজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছেন। আর কাহালুর আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাত্র একজন পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।
একটি কলেজে ৪৬ জন শিক্ষার্থী ফেল করা এবং চারটিতে হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে সবার অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতে, নামসর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় বছর বছর এমন বিপর্যয় ঘটছে।
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, আমরা আরও ভালো ফলাফলের আশা করেছিলাম। তবে সার্বিক পরিস্থিতির বিচারে যা হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে এই ফলাফলকে আরও উন্নত করতে এবং অর্জিত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ জানান, দেশেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে। তবে এটিকে পরীক্ষার্থীদের সঠিক ও প্রকৃত মূল্যায়ন হিসেবে দেখতে হবে। আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের আরও মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুত হয়ে পরীক্ষা প্রদান করা উচিত।
আপনার মন্তব্য দিন


